SA-71 Blackbird বিমান পর্ব (2)

SA-71 Blackbird বিমান পর্ব (2)

 

যার কারণে বহু সংখ্যক প্রোটোটাইপকে সমস্যার কবলে পড়তে হয়। আর এই সমস্যা সমাধানের জন্য পরবর্তী যে উড়োজাহাজগুলো বানানো হয় সে উড়োজাহাজগুলোর কিছু জিনিস গুলোর পরিবর্তন আনা হয়েছিল। ওই বিমানের পার্টসগুলো দৈর্ঘ্য বৃদ্ধি পাওয়ার সমস্যা সমাধানে নিজে নিজেই হয়ে যেত তখন SA-71 black-bird আকাশে থাকা অন্য কোনো অয়েল ট্যাংকার উড়োজাহাজ থেকে উড়ন্ত অবস্থায় প্রয়োজনে জ্বালানি সংগ্রহ করত টেক ওফ এর কিছুক্ষণ পরে। এয়ার ব্রেক এবং ল্যান্ডিং গিয়ার এর উপর চাপ কমাতে এমনটি করা হয়।

প্রায় সাড়ে ৪৬ হাজার লিটার জ্বালানি নিয়ে ৫২৩০ কিলোমিটার দূরে গিয়ে অপারেশন চালাতে সক্ষম ছিল SA-71 নামক এই উড়োজাহাজটি। একাধিকবার এর রেঞ্জ ও অ্যান্ডডিইবার বাড়ানো হতো প্রয়োজনীয় জ্বালানি নিয়ে। ব্লাগবাড নামক এই উড়োজাহাজটি একবার ল্যান্ড করলে পুনরায় উড়ানোর জন্য এক সপ্তাহ সময় লাগে ।অনেক সময় মাস খানেক সময় লেগে যায় এই উড়োজাহাজ ল্যান্ড করতে। ব্ল্যাক বার্ড নামের এই উড়োজাহাজটি যন্ত্রপাতিগুলো ড্যামেজের এর পরিমাণ ছিল একটু বেশি। এই উড়োজাহাজটি প্রচন্ড গতিতে চলার কারণে বিমানের কিছু নাট বল্টু খুলে পড়ে গেছে।

এমনকি বিমানে এমন কিছু নাটবল্টু ছিল যেগুলো একবারের বেশি দ্বিতীয় বার ব্যবহার করার কোনো সুযোগ ছিল না।  ব্ল্যাক বার্ড নামের এই উড়োজাহাজটি রক্ষণাবেক্ষণ করতে বছরে প্রায় ৩০০ মিলিয়ন ডলার খরচ হয়ে যেত। ব্ল্যাক বার্ড নামের এই উড়োজাহাজটি ১৯৮১সালে একবার সোভিয়েত ইউনিয়নে নতুন নেভার থেকে ছবি তুলতে গিয়ে উড়োজাহাজটির নরওয়েতে ইমারজেন্সি ল্যান্ড করে। ব্ল্যাক বার্ড উড়োজাহাজ উড়াতে গিয়ে প্রতি ঘন্টায় প্রায় ৮৫ হাজার ডলারের মতো খরচ হতো। এই বিমানের কোনো একটি যন্ত্র নষ্ট হয়ে গেলে অন্য কোন যন্ত্র ব্যবহার করা যায় না বিধায় ঐ সমস্ত যন্ত বাদ দিয়ে নতুন পালস লাগিয়ে উড়োজাহাজটি পড়ানো হতো পুনরায়। তৎকালের স্পর্শকাতর’ উড়োজাহাজ এস আর-71।প্রতিটি ব্লাগ বাবরের দাম ছিল ৩৪ মিলিয়ন ডালর ২৭৮ মিলিয়ন ডলর মতো আজকের দিনে।

আফটার বার্নিং টার্বোজেট ইঞ্জিন ব্যবহার করা হয়েছে ব্লাগবাড হোয়াইটনে এন্ড Pratt এই দুটি বিমানে। টার্বোজেট থেকে রামজেটে এ রূপান্তরিত হতে পারে প্রয়োজনে। এই কাজের প্রক্রিয়াটা খুবই জটিল ছিল। আগ্রহী পাঠকের বোঝার সুবিধার্থে লেখার শেষে একটি সুন্দর ভাবে ভিডিও সংযুক্ত করা হয়েছে যাতে পাঠকরা সহজে বুঝতে পারে এটা। ব্ল্যাকবার্ড নামের এই উড়োজাহাজটি অনায়াসে ৮৫ হাজার ফুট উপরে এবং ২৫.৯ কিলোমিটার উচ্চতায় উড়ে যেতে সক্ষম ছিল। শব্দের গতি স্কেলের ১৩.২ যা এস আর 71 নামক বিমানের ব্ল্যাকবার্ড এর সর্বোচ্চ গতি ৩৫৪০ কিলোমিটার ঘন্টা (২২০০ মাইল)।

SA-71 Blackbird বিমান পর্ব (2)এই উড়োজাহাজকে ধ্বংশ করবে এমন তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়নের কোন মিসাইলে সাধ্য ছিল না। চার হাজারেরও বেশি এন্টি ক্রাপ্ট মিসাইল ফায়ার করা হয়েছিল এই এস আর 71 নামক উড়োজাহাজটির ২৪ বছরের সার্ভিস লাইফে। এর একটিও ঐ উড়োজাহাজকে স্পর্শ করতে পারেনি। এই সময়ে ওই উড়োজাহাজটি ২০০ যুদ্ধবিমান কে গতির জোরে পরাস্ত করতে পারে। লিবিয়ার আকাশে মিসাইল ফাঁকি দেওয়ার সময় একটি ব্লাগবার্ড  ১৩.৫ গতি তুলে বিশ্বরেকর্ড গড়ে ১৯৮৭সালে। এসআর 71 বিমানের একটি অলৌকিক ক্ষমতা হলো যে কোনো মিসাইল তার দিকে ছুরলে ওই উড়োজাহাজটির নিজে নিজে গতিবৃদ্ধি হয়ে মিসাইলের রেস্নের বাইরে চলে যেত।

ফলে ওই বিমানে থাকা দুইজন পাইলট কোন কিছুই করতে পারত না। তখনকার যুগে অর্থ উচ্চতায় অ্যন্টি এয়ারক্রাফট ওরার মত ক্ষমতা ছিল না। সর্বমোট  ব্লাগবার্ড বানানো হয়েছিল ৩২ টি। বিভিন্ন দুর্ঘটনায় ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল বারোটি এই উড়োজাহাজ। তবে এই ১২ টি বিমানের কোন ১ টিও শত্রুর হাতে ধ্বংস হয়নি। ইন্টারসেপ্টর বিমান সোভিয়েত ইউনিয়নের সর্বোচ্চ গতির উড়োজাহাজ। বিগ ২৫ যুদ্ধউড়োজাহাজ ১৯৮৭ সালে বাল্টিক সাগর এক ইঞ্জিন নষ্ট হওয়ায় এর কিছু টার্গেট লক করে ফেলেছিল এই বিমানটি। সুইডিশ এয়ারক্রাফট চারটি যুদ্ধউড়োজাহাজ ব্ল্যাবার্ড কে রক্ষা করতে এগিয়ে আসে মিসাইল ফায়ার এর আগেই। এই একটি ঘটনা ব্যতীত শত্রুরা দ্বিতীয়বারের মতো এই উড়োজাহাজকে নাগালে পেয়েছে এর কোন উদাহরন নেই।

ব্ল্যাকবার্ড এর চেয়ে বেশি গতির উড়োজাহাজ হলো এক্স-১৫। কিন্তু সেটিকে রকেট ইঞ্জিন চালিত করা হয়েছিল জেট ইঞ্জিন নয়। সাধারণ বিমানের মত এক্স-১৫ সরাসরি আকাশে উঠত না। একটি নির্দিষ্ট উচ্চতায় নিয়ে লঞ্চ করা হতো বি -৫২ বিমানের ডানায় করে নিয়ে। মানুষ চালিত মিসাইল বলা হয় এক্স -১৫ নামক এই বিমানটিকে যা কিনা ঘন্টায় ৮,২৭৪ কিলোমিটার গতিবেগে চলতে সক্ষম। তাই সর্বোচ্চ গতির উড়োজাহাজ এর খেতাব দেয়া হয় এস আর ব্ল্যাকবার্ড কেই। একটি ব্লাগবার্ড ১৯৪৭ সালে ঘন্টায় ২,৯০৮কিলোমিটার গতিতে ১ঘন্টা ৫৫ মিনিটে নিউইয়র্ক থেকে লন্ডনে উড়ে গিয়েছিল।

SA-71 Blackbird বিমান পর্ব (2)নিউইয়র্ক থেকে লন্ডনে যেতে তৎকালে কনকর্ড সুপারসনিক যাত্রীবাহী বিমানের একই পথে প্রায় ৩ ঘন্টা সময় লাগে। ২৪ হাজার কিলোমিটার পাড়ি দিয়েছিল ব্লাগবার্ড 1971  সালে সাড়ে ১০ ঘন্টায়। এস আর -71 উড়োজাহাজগুলো অবসরে পাঠানো হয়েছিল আর ১৯৮৮ সালে এবং তার দুই বছর পরে আবার সার্ভিসে আনা হয়। নাসাতে নভোচারীদের টেস্ট ফ্লাইট এর কাজে কিছুদিন ব্যবহার করা হয়েছিল এই ব্লাগবার্ড উড়োজাহাজগুলো ১৯৯৮ সালে মার্কিন এয়ার ফোর্সে থেকে অবসরের পর। ব্লাগবার্ড বিমানের পাইলটদেরকে নভোচারীদের মত এয়ার প্রেসার স্যুট পরিধান করতে হতো যা ককপিটে প্রেসার নিয়ন্ত্রণ সিস্টেমের সাথে সম্পর্কযুক্ত ছিল কারণ এই উড়োজাহাজটি অতি উচ্চতায় অতি উচ্চ গতিতে চলতো।

যদি কখনো মিসাইল হামলাই এই উড়োজাহাজটি ধ্বংস হয়ে যায় তাহলে ৩.২ গতিতে পাইলট প্যারাসুট নিয়ে বেরিয়ে আসতে পারতের এই উড়োজাহাজ থেকে । তবে তাকে ২৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা সহ্য করতে হবে, তা না হলে এখান থেকে বের হতে পারবে না সে। ককপিটে থাকা প্রেসার নিয়ন্ত্রণ সিস্টেমের একটি পোর্টেবল ভার্সন ছিল, যা এর সাথে সংযুক্ত থাকতো যার ফলে পাইলকে নিয়ে নিচে নামার সময় স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতাসে চাপের সঙ্গে মানিয়ে নিতে সহায়তা করত এবং কোন বিপদ ছাড়াই পাইলট নিচে নামিয়ে নিয়ে আসতে পারত।

SA-71 Blackbird বিমান পর্ব (2)নিজস্ব লাইফ সাপোর্ট সিস্টেম ছিল এই উড়োজাহাজ টির, যা অতি উচ্চতায় অক্সিজেন স্বল্পতায় পাইলটদের শ্বাস নিতে সহায়তা করত । পুরো ফ্লাইটে এই মাস্ক আর খোলা সম্ভব হতো না। পাইলটরা দীর্ঘ সময় ধরে উপরে থাকার কারণে তারা পানি পান করত পাইপ দিয়ে ,বিশেষ বোতলের পানি । জেলির ন্যায় খাবার দেয়া হতো পাইলটদেরকে টুথপেস্টের  মত দেখতে ওই খাবারগুলো, এই খাবারগুলো দেওয়া হয়েছিল কারণ ওই সময়টায় মাস্ক খুলে খাবার পরিধান করা সম্ভব হচ্ছিল না তাই মাস্ক এর ভিতর দিয়ে তুথপেস্ট নামক এই খাবার খাওয়া সম্ভব ছিল।

এছাড়া পাইলটরা বিশেষ ধরনের ইউরিন বোতল ব্যবহার করত প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিলে। বিমানে বডির  তাপমাত্রা ৬৬০ থেকে ৯০০ ডিগ্রী সেলসিয়াস তাপমাত্রা ছিল এই উড়োজাহাজ যখন সর্বোচ্চ গতিতে চলতে, ১২০ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত তাপমাত্রা উঠে যেত উইন্ডশিল্ডের । কুলিং সিস্টেম যোগ করা হয়েছিল এই বিমানে পাইলটদেরকে সুরক্ষা করার জন্য এবং নাইট্রোজেন গ্যাস ভর্তি ল্যান্ডিং গিয়ার ঠান্ডা করার কাজও  চালনা করা হতো এই গ্যাস ব্যবহার করা হতো। সবচেয়ে মজার ব্যাপার হল এই সিস্টেমের ককপিটের বাড়তি তাপকে অতি উচ্চতা ঠান্ডা করে ককপিটের ভিতর গরম রাখা হতো এবং পাইলটদেরকে সুরক্ষা দেওয়া হতো।

SA-71 Blackbird বিমান পর্ব (2)প্রথম যুগের স্টেলথ উড়োজাহাজছিল এস আর 71। এসআর নামের এই বিমানের রাডার ক্রস সেকশন এর মান মাত্র ১০ স্কয়ার মিটার। আজকের যুগে এটি একটি সাধারন ব্যাপার হলেও ৫০ বছর আগে ছিল এটি একটি খুব বড় ধরনের জটিল ব্যাপার। বর্তমান যুগে ড্রোন ও স্পাই স্যাটেলাইটের যুগে এই ধরনের গোয়েন্দা বিমানের  চাহিদা শেষ হয়ে গেছে এমনটি ভাবার কোন দরকার নেই। এস আর ৭২ বানানোর কাজ করছে যুক্তরাষ্ট্র বহু আগে থেকেই। ২০২৫ সালে এই উড়োজাহাজটি আকাশে উড়বে তা ধারণা করা হয়। তবে সেই যুগের থাকা ব্লাগবার্ড নামক এই উড়োজাহাজটি ছিল কিংবদন্তি। কোন দেশে আজ পর্যন্ত এর সমতুল্য কোন একটি উড়োজাহাজ বানাতে পারেননি। এভিয়েশন ইঞ্জিনিয়ারিং জগতে অবাক কর হিসেবে আখ্যায়িত করা হয় এই ব্ল্যাকবার্ড উড়োজাহাজকে।

Thank You for Visit.

Leave a Comment