2021 সালে প্রসার ঘটবে যেসব ব্যবসা ক্ষেত্রে

2021 সালে প্রসার ঘটবে যেসব ব্যবসা ক্ষেত্রে

 

বিষে ভরা বিশ সাল শেষ হয়ে গেলেও যেষ হয়নি কোভিড-১৯ এর প্রভাব।বিশ্বজুড়ে বেশ কয়েকটি ওষুধ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান কাজ করে গেলেও,এখনো বেশ লম্বা সময় অপেক্ষা করতে হবে পরিস্থিতি সাভাবিক করতে।এবারের মহামারি ব্যাবসা ক্ষেত্র থেকে চাকরির বাজার সকল ক্ষেত্রেই ধ্বস নামিয়েছে।২০২০ সালে এমন কিছু ব্যাবসা উন্মোচিত হয়েছে যা এই মহামারি না আসলে আমরা কোনদিন জানতে পারতাম না।বরং বলা যায় মহামারি এ ব্যাবসার জন্য আশির্বাদ হয়ে এসেছে। বাসা থেকে অফিসের কাজ করা,অনলাইনে পণ্য ডেলিভারি সিস্টেম,ই-কমার্স এবং এফ কমার্সের  প্রসার,টেলিমেডিসিন সুবিধা,অনলাইন এডুকেশনাল প্লার্টফর্ম সহ এমন নানাবিধ নতুন মাধ্যমের দেখা মিলেছে কোভিড ১৯ এর অসিলায়।

২০২০ সালের এসকল মাধ্যমের অধিকাংশই হয় নতুন করে শুরু হয়েছে কিংবা নিজেরা সাজিয়ে নিয়েছে নতুন করে ব্যাবসা ।আর ২০২১ সালে নিজেকে মেলে ধরার সুযোগ রয়েছে ব্যাবসা প্রসার করার এসকল মাধ্যমের জন্য।তাই এমন ৬টি ব্যাবসা ক্ষেত্র নিয়ে কথা বলবো এখানে যা কোভিড-১৯ এর সময়ে আশির্বাদ হিসেবে কাজ করবে।

১.ওষুধ ব্যাবসাই প্রসার

2021 সালে প্রসার ঘটবে যেসব ব্যবসা ক্ষেত্রেকোভিড-১৯ এর সময় পন্য উৎপাদনকরী প্রতিষ্ঠান গুলোর মাঝে সব চেয়ে বেশি ব্যাস্ত সময় কাটিয়েছে ওষুধ নির্মানকারী প্রতিষ্ঠানগুলো।টেস্টিং কিটের ব্যাপক চাহিদা প্রসার পায় করোনা ভাইরাস আসার সাথে সাথে।বিশ্বব্যাপি এই সংকট নিরসনে টেস্টিং কিট প্রস্তুতের উপর নজর দেয় প্রায় সকল প্রতিষ্ঠানই।পাশাপাশি রাপিড টেস্টের চাহিদা বৃদ্ধি পেয়েছে প্রতিনিয়তই।

সেদিক বিবেচনায় অনেক ব্যাবসা  প্রতিষ্ঠান এখন কাজ করছে এই চাহিদা বিবেচনায়।তবে সব চেয়ে বেশি প্রভাব ফেলেছে করোনা ভাইরাস ভ্যাকসিন আবিষ্কারের ক্ষেত্রটি।যুক্তরাজ্য ভিত্তিক প্রতিষ্ঠান মডার্না mRNA ভিত্তিক টিকা বাজারে নিয়ে আসলেও সেটি ব্যাপক বিস্তারের মুখ এখনো দেখেনি।অনেক দেশেই বরং এই টিকার ক্লিনিক্যাল ট্র্যায়াল চলছে।পাশাপাশি অন্য দেশগুলোর ওষুধ নির্মান প্রতিষ্ঠান গুলো চেষ্টা করছে নিজেদের প্রস্তুতকৃত টিকা বাজারে নিয়ে আসার।২০২১ সাল তাই নিশ্চিত ভাবেই ওষুধ বানিজ্যের জন্য স্মরণীয় হয়ে থাকতে যাচ্ছে।

২.রিমোর্ট ওয়ার্কিং বা ঘরে থেকে কাজ

২০২০ সালের অভিজ্ঞতার পর অনেক ব্যাবসা প্রতিষ্ঠানই ভাবতে শুরু করেছে তাদের কাজের পরিচালনার জন্য আদৌ প্রয়োজন আছে কিনা নিদৃষ্ট কোন অফিসের।কারন কোয়ারাইন্টাইনের জন্য ভিডিও কনফারেন্সিং-এর ব্যাপক ব্যাবহার বৃদ্ধি পেয়েছে।নিয়মিত অফিস মিটিং থেকে শুরু করে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পাঠদানের কর্মসূচি অনলাইনের মধ্যমে এখন সব করা হচ্ছে।এজন্য ব্যাপক আকারে ব্যবহার হচ্ছে জুম গুগল মিটের মতোন ভিটিও কনফারেন্সিং প্লাটফর্ম।আর মোবাইল নেটওয়ার্ক কম্পানি গুলো বিভিন্ন অফার দিচ্ছে অনলাইন কনফারেন্সিং-এ সুবিধার জন্য।রিমোর্ট ওয়ার্কিং এর ব্যাবহার সামনের দিনগুলোতে ব্যাপক আকারে বৃদ্ধি হবে।

এটি যদিও সম্পূর্নরুপে অফিসের কাজকে সম্পূর্নরুপে প্রতিস্থাপন করতে পারে না।তবে অফিসের কর্মচারি না রাখলেও চলে যেসব ক্ষেত্রে সে সব ক্ষেত্রে অনেক প্রতিষ্ঠান সুবিধা নিচ্ছে এই রিমর্ট ওয়াকিং-এর সুবিধা নিচ্ছে।এতে করে বড়ো অফিস ভাড়া করতে হচ্ছে না ব্যাবসা প্রতিষ্ঠান গুলোর।অন্যদিকে খরচের পরিমানও কমে যাচ্ছে কাজ সামিত সংখক কর্মচারী দিয়ে কাজ হয়ে যাওয়াই।

৩.কন্টাক্টলেস ডেলিভারি সার্ভিস

2021 সালে প্রসার ঘটবে যেসব ব্যবসা ক্ষেত্রেমহামারি কোভিড-১৯ এর মাঝে অধিকাংশ কাজ বন্ধ হয়ে গেলেও প্রসার ঘোটেছে বিভিন্ন ডেলিভারির কাজ।ওষুধ পত্র থেকে শুরু করে নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্য কিংবা প্রস্তুতকৃত খাবার সব ক্ষেত্রেই এখন ক্রেতারা ঝুকছে হোম ডেলিভারির উপর।ক্রেতা ও ডেলিভারি ম্যানের মাঝে সামাজিক দূরত্ব বজায় থাকে।

প্রায় সকল ব্যাবসা প্রতিষ্ঠান এজন্য নিয়ে কন্টাকক্টলে ডেলিভারি সুবিধা।এর ফলে ক্রেতা ডেলিভারি ম্যানের নিকট থেকে সরাসরি পন্য গ্রহন না করে নিজের সুবিধা মতো সময়ে পন্য গ্রহণ করতে পারে।এমন সুবিধা পশ্চিমা বিশ্বে আগেই প্রচলিত থাকলেও আমাদের দেশে এখন এই সুবিধা পরিচিতি পেতে যাচ্ছে।তাই ক্রেতাদের মন জয় করার জন্য ডেলিভারি প্রতিষ্ঠানগুলো চাইলে এই সুবিধা আনতে পারে।

৪.টেলিহেলথ এবং টেলিমেডিসিন

সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিতের জন্য ২০২০ সালে বেশ দীর্ঘ সময় ধরে চিকিৎসা সেবা বন্ধ ছিলো।অধিকাংশ রোগী এজন্য ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের মাধ্যমে চিকিৎসা সেবা নিতে বাধ্য হয়েছিলো।অনেক ক্ষেত্রে এই সুবিধা সরকারি ভাবে দেওয়া হলেও বেসরকারি ভাবে টেলিহেলথ সার্ভিস গড়ে উঠার সম্ভবনা রয়েছে ২০২১ সালে।পাশাপাশি এবছর ওষুধ সরবারাহের কাজেও অনলাইন মাধ্যম প্রাধান্য পেতে পারে।তাই চিকিৎসা সেবায় সুবিধার কথা চিন্তা করে একটি ভালো সিদ্ধান্ত প্রযুক্তির খাতে বিনিয়োগ হতে পারে।

৫.অনলাইন শিক্ষা মাধ্যম

2021 সালে প্রসার ঘটবে যেসব ব্যবসা ক্ষেত্রেমাহামারির প্রভাবে সব চেয়ে ক্ষতিগ্রস্থ ক্ষেত্রগুলোর মাঝে শিক্ষাক্ষেত্র হলো অন্যতম।শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে প্রায় ১ বছর হতে চলল।কিন্তু শিক্ষা ব্যাবস্থা পরিচালনার জন্য অধিকাংশ প্রতিষ্ঠান অনলাইনের মাধ্যমে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।লাখো শিক্ষার্থী বঞ্চিত হচ্ছে যথাযথ নেটওয়ার্কের অভাবে। শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ-এ অনলাইন মাধ্যমে চাহিদার কথা মাথায় রেখে কিছু পদক্ষেপ নেওয়া যেতে পারে।তারই একটি উদাহরন হচ্ছে খান একাডেমি।আমাদের দেশে ইতিমধ্যে টেন মিনিট স্কুলের মতো বেশ কিছু অনলাইন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে।এছাড়া গড়ে উঠেছে উডেমির মতো বেশ কিছু অনলাইন শিক্ষা মাধ্যম।অনেক শিক্ষার্থীই পড়াশোনার পাশাপাশি বাড়তি কিছু শেখার জন্য ব্যাবহার করছে এসকল মাধ্যম।

৬.মাইক্রোমোবিলিটির চাহিদা বৃদ্ধি

কোভিড-১৯ মহামারীর ব্যাপক সীমাবদ্ধতা এসেছে যানবাহনে।নিরাপত্তা এবং অর্থ সাশ্রয়ের কথা চিন্তা করে অনেকেই এখন ছুটছে ব্যাটারি চালিত কিংবা বহনযোগ্য যানবাহনের দিকে।পাশাপাশি হোম ডেলিভারি কিংবা কুরিয়ার সার্ভিসের কাজের প্রচার ও প্রসার বেড়ে যাওয়াই অনেকেই এখন নিজেকে নিয়োজিত করেছে এই পেশায়।ফলে সল্প খরচে একটি ভালো আয়ের মাধ্যম তৈরি করা ও সহজেই যানজট এড়িয়ে চলাচলের সুবিধার কথা চিন্তা করে মাইক্রোমোবিল কিংবা যানবাহনের ক্ষুদ্র ব্যাবহার বেড়ে যেতে পারে এবছর। উপরের বিষয়গুলোর পাশাপাশি আরও অনেক ব্যাবসা ক্ষেত্র আছে যেসব জায়গায় ব্যাপক প্রসার হওয়ার সম্ভবনা রয়েছে ২০২১ সালে।প্রযুক্তির সাথে তাল মিলিয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারলে তথ্য ও প্রযুক্তির বিপ্লবের জন্য অনন্য একটি বছর হতে পারে ২০২১।

Thanks For Visit.

Leave a Comment