সমালোচনা: খারাপ না ভালো?

সমালোচনা: খারাপ না ভালো?

এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া কঠিন যে অন্যের সমালোচনা করে না। কখনো কি নিজের সমালোচনা করে দেখেছো? কিন্তু অন্যের কাছে শুনে দেখেছো নিশ্চয়ই। আপনি যতই ক্ষমতাবান হোন না কেন এবং যতই ভালো মানুষ হন না কেন কোনো না কোনো মানুষের মুখে সমালোচনার পাত্র হবেন। হয়তোবা কোন চায়ের আসরে আপনার সমালোচনার মুখর হয়েছে উঠেছ।

আমরা অনেকেই নিজের সমালোচনা সহজে নিতে পারে না। কেউ যদি সমালোচনা করে কয়েক মুহূর্তের মধ্যে তাকে বন্ধুর নাম থেকে তালিকা কেটে শত্রুর নামে লেখা হয়। আমরা যদি এই সমালোচনা কি ঠিকঠাক কাজে লাগাতে পারি তাহলে আমাদের জীবনকে অনেক দূরে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারে।

সমালোচনার উদ্দেশ্য নিয়ে ভাবা উচিত

সমালোচনা কথাটি শুনে আমাদের উচিত না ঝগড়াঝাঁটি করা, মান অভিমান করা আসলে উচিত না সমালোচনা করার জন্য। প্রথমত আমাদের ভাবা উচিত সমালোচনা কেন হচ্ছে?। যে ব্যক্তি আমার নিয়ে সমালোচনা করেছে তার নিয়ে ভাবা উচিত। প্রকৃতপক্ষে আমার কাজে কোন ত্রুটি আছে কিনা সেই দিকটা নিয়ে সমালোচনা করা হচ্ছে নাকি কোন ব্যক্তি কেন্দ্রিক আমাকে ছোট করা হচ্ছে।

কেউ আপনার ভুল ধরিয়ে দিতে চাইবে না কিন্তু কখনো যদি দেখেন যে আপনার নিয়ে সমালোচনা করা হয়েছে তাহলে ভাববেন যে এটা আপনার উপকার।জীবনে প্রত্যেক মানুষেরই প্রশংসা করে থাকে কিন্তু সমালোচনা খুব কম মানুষ করে থাকে, কাজটা ভালো হলো না কি খারাপ হলো মূলত এই বিষয়টা নিয়ে সমালোচনা বেশি হয়ে থাকে। এক্ষেত্রে যাতে ব্যক্তিদের মধ্যে কোন ভুলবোঝাবুঝি না তৈরি হয় সেদিকে লক্ষ্য রাখা উচিত।

সমালোচনা আর সমালোচনাকারী ব্যক্তি দুটোই আলাদা জিনিস

যিনি সমালোচনা করেন অন্যের ব্যাপারে সেই সম্পর্কে তার শত্রু তালিকায় দেওয়াটা কোন মানে হয় না। সমালোচনা সবসময় নেতিবাচক না হতে পারে‌ ,বরণ সে আপনার উপকারী করেছে। সমালোচক ব্যক্তিকে শত্রুর খাতায় নাম লেখানোর আগে একটু ভাবা দরকার যে সমালোচনা করেছে সেই ব্যক্তি আপনার সম্পর্কে আগে ভালো করে জেনেছি।

স্বাভাবিকভাবেই এই লেখাটির কথাই ধরা হোক। এই লেখাটি কোন ব্যক্তির ভাল লাগতেও পারে আবার কোন ব্যক্তি ভালো নাও লাগতে পারে। লেখা যদি অনেক সুন্দর হয় তাহলে আপনি না পরে বলতে পারবেন যে লেখাটা অনেক সুন্দর।

একজন লেখক হিসাবে ফিডব্যাক গুলো নেতিবাচক পাওয়ার আশায় আপনার পরের ব্লক টি হাতে নিতে হবে। মূলত যে ব্যক্তি সম্পর্কে সমালোচনা করেছে সেই ব্যক্তির উচিত ঐ সমালোচনা করা কাজ টাকে বেশি মনোযোগ দেওয়া এবং নিজের জীবনকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া।

সমালোচনা: খারাপ না ভালো?

সকলকে গঠনমূলক সমালোচনা কে মন দিয়ে শোনার অনুরোধ রইল

প্রত্যেক ব্যক্তিরই মন দিয়ে শোনা উচিত যদি সমালোচনা টি গঠনমূলক হয়ে থাকে।নিজের থেকে নিজের কাজের খুঁটিনাটি অন্য ব্যক্তি ভালো জানে যদি সে মনোযোগ সহকারে দেখে। আপনার কাজ রোজ নতুন নতুন ব্যক্তির কাছে পৌছে দেওয়া হলো সমালোচনার কাজ। প্রত্যেক মানুষের আলাদা মন্তব্য এবং আলাদা মতামত প্রকাশ করার ক্ষমতা আছে। এরই একটা মাধ্যম হলো সমালোচনা।

প্রত্যেকদিন প্রশংসা করার একটা মাধ্যম হলো যে একই ব্যক্তি বা একই বুদ্ধি সম্পন্ন ব্যক্তি আপনার কোন একটা বিষয় নিয়ে আলোচনা করছে। চেনা পৃথিবীর বাইরে যে একটা জগৎ আছে আপনার আপনার বুদ্ধির চেয়েও আরো অনেক ভালো বিচার সম্পন্ন ব্যক্তি আছে। সমালোচনার মুখে মানুষ তখনই ঘটে যখন তার গুন অন্য মানুষের পছন্দ হয়ে থাকে।

আপনার কোন কোন বিষয়গুলো নিয়ে সমালোচনা করা হচ্ছে সেগুলো নোট করুন দরকার হলে পাল্টা জবাব দিয়ে উত্তর গুলো জেনে নিন।

সমালোচনা বিষয়টি নিয়ে মন খারাপ করা যাবে না বা রেগে যাওয়া যাবে না । আগেই দরকার হলে সমালোচনা ব্যক্তির সাথে বসে কোন বিষয় সম্পর্কে কথা বলছে সেটা জেনে নিন। মূলত সমালোচক কারী ব্যাক্তির আপনার কোন কাজে বিষয়টি নিয়ে আগ্রহ সেটা জানা দরকার। অন্যের কাছে ভালো হতে হলে নিজের কাজকে অন্যের মত করে করাই বেশি প্রয়োজন। কিন্তু আমরা এই সমস্যাটা খুঁজে বের করতেই বেশি আপত্তি করে থাকি।

সমালোচনা: খারাপ না ভালো?

বেশ কিছু ইতিবাচক দিক আছে সমালোচনা

একজন ব্যক্তির দৃষ্টিভক্তি পাল্টে দিতে পারে সমালোচনা। কোন বিষয় একজন ব্যক্তি যেভাবে দেখে থাকেন অন্য জন ব্যক্তি সেভাবে না-ও দেখতে পারেন। অন্যরা কী ভাবছে সেই একই বিষয়ে আপনি জেনে নিতে পারবেন সমালোচনার মাধ্যমে।

যেমন বর্তমানে পুরাতন গান গুলো গাওয়া একজন ব্যক্তির ট্রেন্ড হয়ে দাঁড়িয়েছে । বর্তমানে ইউটিউবে সার্চ দিলে এমন অনেক গায়কের গান পাওয়া যায় ।বর্তমান মানুষগুলো কাভার কৃত গানগুলো বেশি পছন্দ করে প্রকৃত গান থেকে।

আবার এটা অনেকের কাছে একটা বিবৃতি বলে মনে হতে পারে। দুই পক্ষেরই পছন্দের অপছন্দের বিষয়টি মাথায় রেখে মূলত গানটি গাওয়া হয় থাকে। এখানে মূলত গ্রহণ করা হবে না অংকের মত দুইয়ে দুইয়ে চার করাটা। এটি এমন একটা বিষয়ক যেটা কারো ভাল লাগতেও পারে আবার নাও ভালো লাগতে পারে। কিন্তু সবাই আপনার শ্রদ্ধা এই বিষয়টি মাথায় রাখতে হবে।

উইনস্টন চার্চিলের ভাষা অনুযায়ী- একটা ভালো বিষয় হলো যে আপনার শত্রু আছে ,এর মানে এটা যে আপনি জীবনের কোন একটা সময়ে কিছু একটার জন্য দৃঢ় অবস্থান নিয়েছেন।

প্রত্যেক ব্যক্তির উচিত রাগকে কন্ট্রোল করা এবং নাক মুখ মুসকানো বন্ধ করা সমালোচনা শুনে। বলতো সমালোচনা সবসময়ই ইতিবাচক হয়ে থাকে কয়েকটি বিষয় বাদে। সমালোচনা বিষয়টি মূলত আপনাকে ভালোর জন্যই করা হোক কিংবা সকলের সামনে ছোট করার জন্য করা হোক আপনার উচিত সমালোচনা বিষয়টি মনোযোগ সহকারে সোনা এবং তাদেরকে দেখিয়ে দোওয়া যে আপনি বড় কিছু করতে পারেন।

সমালোচনা: খারাপ না ভালো?

এখন থেকে আপনার উচিত হবে কবে, কখন ,কিভাবে আপনাকে সমালোচনা করেছিল সেই বিষয়টা খুঁজে বের করা এবং সেই অনুযায়ী আপনার জীবনকে গড়ে তোলা। আর নিজেকে কি ভাবে শুধরে দেওয়া হবে সেটা নির্ভর করবেন নিজের ব্যক্তিত্বের উপর। আরেকটা বিষয় হলো ধৈর্যশীলতা কে গ্রহণ করার মাধ্যমে আপনি জীবনে উন্নতি করতে পারবেন।

 

Thank You for visit.

Leave a Comment