যুদ্ধ বিমান:বি-২স্পিরিট-1989

যুদ্ধ বিমান:বি-২স্পিরিট

 

বিশ্বের সবচেয়ে দামি সামরিক বিমান ঘটনা ১৯৯৯ সালের ,ইউরোপে চতুর্থ যুগোশ্লাভিয়া যুদ্ধ বা কসোভো যুদ্ধ চলছে।মুসলিম গনহত্যা এড়াতে বনস্য়ার মতো সার্বিয়ার উপর হামলা শুরু করেছে বৃহত্তম বিশ্বের সামরিক জোট ন্যাটো।যুক্তরাষ্ট্র থেকে আটল্যান্টিক মহাসাগরে উরাল দিয়ে নন স্টপ ফ্লাইটে প্রায় সাড়ে পাঁচ হাজার মাইল দূরত্ব পাড়ি দিয়ে সার্বিয়ায় এসে হামলা শুরু করলো ছয়টি বিশেষ ধরনের বোমারু বিমান।ইউরোপিয়ান এয়ার ডিফেন্স ব্রিগেডর জেনারেলদের তখন মাথায় হাত।রাশিয়া সতর্ক করে দেওয়ার পর ঘনিষ্ঠ মিত্র ন্যাটোর আকষ্মিক বিমান হামলা থেকে বাঁচতে সমস্ত বিমান বিধ্বংসী ক্ষেপাণাস্ত্র ও রাডার প্রস্তুত করে তারা বসে ছিলো।যুদ্ধ বিমান:বি-২স্পিরিট

বিমান হামলা শুরু হওয়ার পর দেখা যায় কোন কাজেই আসছে না সেগুলো।অজানা শত্রুর অদ্ভূত বোমারু বিমানগুলোকে মিসাইল মেরে ভূপাতিত করা তো দূরের কথা,রাডারেই দেখা যাচ্ছে না। রাজধানী বেলগ্রেড ও আশেপাশের গুরুত্বপূর্ন সামরিক স্থাপনায় বিমান গুলো ব্যাপক ধ্বংসলীলা চালিয়ে ফিরে গেল সাড়ে পাঁচ হাজার দূর নিজেদের ঘাটিতে।টানা ৩০ ঘন্টা আকাশে উড়েছিলো এই বিমানগুলো এই বিশাল দূরত্ব পাড়ি দিতে।ভাবছেন হয়তো,পৃথিবীতে এমন বিমান আছে নাকি?আপনাদের আজকে শোনানো হবে বিশ্বের সব চেয়ে দামি বিমান বি-২ স্পিরিট (b-2 spirit)এর গল্প।যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি লংরেন্জ বোমারু বিমানকে এভিয়েশন জগতের এক বিস্ময় বলা হয়।যুদ্ধ বিমান:বি-২স্পিরিট

লংরেন্জ বোমারু বিমানের চাহিদা ছলো দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের আগে থেকেই।যুক্তরাস্ট্র থেকে উরে গিয়ে বিমান হামলা চালানোর উপযোগী বিমান এই প্রহরের প্রধান শক্তি ছিলো স্নায়ু যুদ্ধের সময়।বিখ্যাত বোমারু বিমান বি-৫২ গতি কম ছিলো স্নায়ু যুদ্ধ্যের সময়।আবার খুবই উন্নত ছিলো রাডার ক্রাস(RCS) যা সোভিয়েত রাডারে সহজেই ধরা পরে যেত।ফলে মার্কিন ইয়ার ফোর্স স্টেলথ বোম্বারের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করে।রাডার ফাঁকি দিতে সক্ষম স্টেলথ যুদ্ধবিমান তৈরির অভিজ্ঞতা নিতে শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র সত্তর এর দশক থেকেই।কিভাবে এ দরনের বিমান কাজ করে তা জানতে স্টেলথ বিমান কিভাবে রাজার ফাঁকি দেয় শীর্ষক এই লেখাটি পড়ুন।

এটিবি প্রোগ্রাম যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা গবেষণা বিষয়ক প্রতিষ্ঠান defense advanced research project agency বা darpa বেশিরভাগ সরকারি অ্যাডভান্স টেকনোলজির প্রজেক্টে নেতৃত্ব দিয়ে থাকেন।Advanced Technology Bomber (ATB) প্রজেক্টে বিশাল RCS যুক্ত বিমানকে রাডারের অদৃশ্য করে দেওয়া যায় সেই প্রোজেক্ট পার্টনার হতে বিভিন্ন বিমান নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের কাছে কনসেপ্ট আহব্বান করে ১৯৭৪ সালে।মার্কিন সরকার যে কম্পানির সমরাস্ত্র সবচেয়ে ভালো এবং উন্নত হবে সেটাই কিনে নিতো।নরথরোপ সাড়া দেয় ডারপার আহব্বানে। এদের মধ্যে বিশ্বের সবচেয়ে দ্রুতগতির বিমান ‘এসআর-৭১ ব্লাকবার্ড নির্মানের অভিজ্ঞতায় এগিয়ে ছিলো।

এই বিমান দুটো কিছুটা কিছুটা স্টেলথ হলেও ডারপা-র প্রয়োজনের তুলনায় যথেষ্ট নয়।পরবর্তিতে লকহিড এফ-১১৭ নাইটহক’রিকনসিস বিমান তৈরি করে।বিশ্বের প্রথম কার্যকর স্টেলথ বিমান এটি।একে বানানো হয়েছিলো গোয়েন্দা মিশনের জন্য।তবে সন্তুষ্ট ছিলো না নাইটহকের সল্পমাত্রাই আক্রমন সক্ষমতায় প্রতিরক্ষা মন্ত্রনালয়।তখন পর্যন্ত কয়েক দফা পরিবর্তন হয় ডিজাইন ও বিভিন্ন আপডেটের কারনে ২৩ বিলিয়ন ডলার খরচ হয়ে যায় এই প্রজেক্টে।তবে খরচের মাত্রা তো কেবল শুরু। বি-২এর খরচের মাত্রা দেখলে আপনার চোখ উঠবে কপালে।১৯৯৭ সালে প্রতিটি বিমান বানানোর পিছনে নির্মান ব্যায় ৭৩৭ মিলিয়ন ডলার।মার্কিন এয়ারফোর্সের ইচ্ছা ছিলো এটিবি প্রোগ্রামের বিমান বানানো হবে ১৩২টি।কিন্তু সোভিয়েতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান শত্রুর পতন ঘটেছে।যুদ্ধ বিমান:বি-২স্পিরিট

পরবর্তিতে প্রথম প্রোটোটাইপকে আরো ৫০০ মিলিয়ন খরচ করে রুপান্তর করা হয় অপারেশনাল এয়ারক্রফটে।অর্থাৎ যুক্তরাষ্ট্র সার্ভিসে আনে মোট ২১ টি বিমান।এর মধ্যে ২০০৮ সালে আবহাওয়া বিষয়ক সফটওয়্যারের ত্রুটির কারনে একটি ক্রাশ করে। প্রতিটি বিমান ওড়াতে খরচ হয় ঘন্টা প্রতি ১.৩৫ লাখ ডলার।শুধুমাত্র এর বাইরে রক্ষণাবেক্ষন করতেই প্রতিটি বিমানের ক্ষেত্রে বছরে প্রোয়জন ৩.৪ডলার।এসব কারণে রিসার্চ এন্ড ডেভোলপমেন্ট।প্রতিটি আপডেট খরচ মিলিয়ে বি-২ এর পিছনে খরচ হয় ২.২। ডলার।চলুন জেনে নেওয়া যাক বি-২ এর সক্ষমতা সম্পর্কে।

বি-২ স্পিরিট একটি স্ট্র্যাটেজিক বোমবার লংরেন্জ বোমবার।শত্রুদের খুবই ভিতরে থেকে নিখুঁত ভাবে বোমারামলা চালিয়ে চরম ক্ষয়ক্ষতি করার জন্য এটি বানানো হয়েছিলো।বিমানটি চালাতে প্রয়োজন ২ জন পাইলোট।এতে বেশ কিছু ইউনিক ফিচার রয়েছে দীর্ঘ সময় আকাশে ওড়তে হয় এজন্য।যেমন-পাইলটদের জন্য রয়েছে টয়লেট।এছাড়া খাবার গরমের জন্য রয়েছে মিনি কিচেন।পাইলোট সিস্টেম অটো থাকায় একজন বকপিটে বসে আর একজন পিছনে করিডোরে প্রয়োজনে ঘুমাতে পারে।তবে মাঝ আকাশে তেল নেওয়ার সময় ২জনকেই থাকতে হয় ককপিটে। বিমানটির স্টেলথ সুবিধার কারনে রাডারকে ফাকি দিয়ে শত্রু এলাকার অনেক ভিতরে হামলা চালাতে পারে।যুদ্ধ বিমান:বি-২স্পিরিট

৫০হাজার ফুট উচ্চতা দিয়ে এটি উড়তে সক্ষম যা শনাক্ত করা রাডারের পক্ষে সনাক্ত করতে সক্ষম।বি-২ তার ২টি অভ্যন্তরিন ফুয়েল ট্যাংকে ৭৫,৭৫০ লিটার জ্বালানি নিয়ে সর্বোচ্চ ১০১০ কি.মি ঘন্টা গতিতে একটানা ১১০০০ কি.মি (৬৯০০মাইল)দূরে গিয়ে অপারেশন করতে সক্ষম।তবে মাঝ আকাশ থেকে ট্যাংকার হিমান থেকে একবার ফুয়েল নিলে রেন্জ বৃদ্ধি পেয়ে ১৯ হাজার কি.মি পর্যন্ত চলে যায়।ফলে একাধিক বার ফুয়েল নিয়ে পৃথিবীর যেকোন প্রান্তে হামলা চালিয়ে আবার ফিরে আসা সম্ভব যুক্তরাষ্ট্রে।এজন্য বিশ্বের সবচেয়ে বড়ো বোমারো বিমান বলা হয় বি-২স্পিরিটকে।অন্য কোন দেশে এর সমকক্ষ কোন বিমান নেই।তবে সমপ্রতি এর করি ভার্সন তৈরি করেছে চীন।যুদ্ধ বিমান:বি-২স্পিরিট

সোভিয়েত ইউনিয়ন এর আগে বেশ কয়েকবার বিমানটি সম্পর্কে তথ্য চুরি করতে গিয়ে ব্যার্থ হয়। সক্ষমতা: এটি বোমা বহন করতে সক্ষম ১৮-২৩ টনের।বি-২ স্পিরিটের রয়েছে দুটি ইন্টারনাল ওয়েপন বে।স্টেলথ সক্ষমতা রাখতে বিমানটি ডানার বদলে তার অস্ত্র লুকিয়ে রাখে পেটের ভিতরে।এটি ৫০০ পাউন্ডের mk-84 এবং GBU-31 বোমা মোট বহন করা যায় ১৬টি।বি-২ এর প্রধান অস্ত্র মূলত এগুলই।আনগাইডেড বোমা গুলোকে উন্নত করতে এসেছিলো লেজার গাইডেড সিস্টেম।যা খুব নিখুঁত হলেউ দিনে রাতে সব ধরনের আবহাওয়া কাজ করতো না।পরবর্তিতে ২৫ হাজার ডলার মূল্যের জিপিএস গাইডেন্স কিট বানায় মার্কিন নৌ ও বিমান বাহিনী মিলে।

এটি উপরিউক্ত ৫০০-২০০০ পাউন্ডের আনগাইডেড বোমা গুলোকে নিখুঁত ভাবে স্মার্ট বোমায় পরিবর্তন করতে পারে।ট্রেনিং-এ দেখা গেছে JDM বোমাগুলো যদি টার্গেট মিস করে তবে তার জিপিএস কো- অর্ডিনেটর বড়োজর ৭মিটার আশেপাশে পরেছে।এ কারনে দেখবেন চলনান যুদ্ধ্যে মার্কিন বিমানগুলো র হামলা খুবই নিখুঁত হয়ে থাকে। কখনো কখনো শত্রুর সুরক্ষিত বাংকার মাটির বেশ গভীরে থাকে যা ২০০০ পাউন্ডের বোমা ফেলেউ সম্ভব হয় না ধ্বংস করা।যুদ্ধ বিমান:বি-২স্পিরিট

এজন্য বি-২ স্পিরিট ম্যাসিভ অর্ডিন্যান্স পেনিট্রেটর(mop)নামের মোট দুটি GBU-57 নামক বিশেষ বোমা বহন করে যার ওজন প্রায় ৩০০০০ পাউন্ড।এই বাংকার শ্রেনীর বোমাতে ৫৩০০ পাউন্ড বিষ্ফোরক ব্যাবহার করা হয় যা মাটির ২০০ ফুট নিচে থাকা কংক্রিটের বাংকারকে গুড়িয়ে দিতে সক্ষম।

Thanks For Visit.

Leave a Comment