মানসিক চাপ এবং পরিত্রানের উপায় : মহামারী সৃষ্ট বিশৃংখলা

মানসিক চাপ এবং পরিত্রানের উপায় : মহামারী সৃষ্ট বিশৃংখলা

করোনা মহামারী বর্তমান সময়ে মানুষের পিছু ছাড়ছে না। যদিও এটি আজ প্রায় দেড় বছর ধরে চলতে , এই মহামারী। ছোট-বড় অনেক শিক্ষা দিয়েছে এই মহামারী আমাদের জীবনে। এই মহামারী আমাদের প্রত্যেকটা মানুষের জীবনকে বদলে দিয়েছে এবং জীবনকে শুরু থেকে গঠন করার সুযোগ করে দিয়েছে । প্রথমবারের মতো আমরা যে শব্দ গুলোর সাথে পরিচিত হয়েছি সেগুলো হলো কোয়ারেন্টাইন ,আইসোলেশন ,লকডাউন ,ওয়ার্ক ফ্রম ইত্যাদি।

অনেকেই ঘরে বসে কাজ করতে চায় যাকে বলা হয় ওয়ার্ক ফ্রম ।এই কথাটি শোনার পরে অনেকেই সুখবর বলে মনে করে ,আসলে এ কথা অস্বীকার করার উপায় নেই যে বেশ কিছু প্রভাবশালী সংস্থার গবেষণা অফিসে গিয়ে কাজ করার কিছু সীমাবদ্ধতা সন্দেহভাবে প্রমানিত হয়েছে। মুদ্রার অন্য একটি বিষয় ধীরে ধীরে প্রকাশ হতে শুরু করেছে। প্রত্যাহিক জীবনে বিশৃঙ্খলা এবং মানসিক চাপ এবং অশান্তির মতো ঝামেলা সৃষ্টি হতে পারে বাসায় বসে কাজ করলে তা বোঝা যায় কাজের গুণগত মান দেখে। প্রথমদিকে এই লকডাউন এর প্রভাবে যে ছুটি  পেয়েছিল কর্মচারীরা তাতে খুবই আনন্দিত ছিল কিন্তু পরবর্তীতে এই ছুটি তাদের জীবনে অশান্তি বয়ে আনে।

মানসিক চাপ এবং পরিত্রানের উপায় : মহামারী সৃষ্ট বিশৃংখলা

এলোমেলো জীবন যাপন বনাম পরিপাটি জীবন যাপন

শৃঙ্খলা এবং কর্মদক্ষতার মধ্যকার সম্পর্ক নিয়ে একটি গবেষণা করেন মিনেসোটা বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত মনোবিজ্ঞানীরা। অনেক বড় আকারের গবেষণা কাজ পরিচালনার জন্য মূলত ধারাবাহিকভাবে একাধিক সম্পর্কিত ছোট ছোট পরীক্ষা সম্পন্ন করা হয় ।একটি প্রশ্নমালা দেওয়া হয় একদল চাকরিজীবীদেরকে যারা দুই ভাগে বিভক্ত ছিল, একদল অফিসের অপ্রয়োজনে এবং নোংরা কাগজ পাতি সরিয়ে রাখবে অন্য একটি দলকে একটা প্রশ্নের উত্তর খুঁজে ,সাজিয়ে-গুছিয়ে, পরিষ্কার, পরিপাটি করে টেবিলের উপর রাখবে।

তাদের একটি নির্দিষ্ট পরিমান তহবিল দান করা হয় এবং আপেল কিংবা চকলেটের মতো কিছু হালকা খাবার গ্রহণ করার সুযোগ দেওয়া হয়। প্রথম দলের স্বেচ্ছাসেবী মনোভাব প্রকাশ পায় বেশি কিন্তু দ্বিতীয় দল হালকা খাবার হিসেবে আপেল কে বেছে নিয়েছে।

পিংপং এ সিরিজের ভিন্ন একটি গবেষণায় বলেন যে বিকল্প ব্যবহার নিয়ে কাজ করা হয়।গবেষকদের মাপকাঠি দুই ভাবে প্রকাশ পায় কারণ দুই দলে একইভাবে আইডিয়া প্রকাশ করলেও তিনি মনে করেন যে বিশৃংখল পরিবেশের কাজ করা সদস্যদের আইডিয়া গুলো ছিল অনেক বেশি সৃজনশীল ও প্রভাবশালী। মানুষকে ভদ্র এবং উৎসাহ প্রদান করে থাকে পরিপাটি কাজের পরিবেশ।অন্যদিকে মানুষের সৃজনশীলতা বৃদ্ধি করে থাকে যারা এলোমেলো পরিবেশে কাজ করে থাকে।

মানসিক চাপ এবং পরিত্রানের উপায় : মহামারী সৃষ্ট বিশৃংখলা

এলোমেলো পরিবেশে মানব মস্তিষ্ক কিভাবে সাড়া প্রদান করে, প্রিন্সটন বিশ্ববিদ্যালয় তার ওপর ভিত্তি করে একটি পরীক্ষা চালানো হয়। ২০০৮ সালে এ গবেষণাটি পরিচালনা করেন নিউরোসায়েন্স অ্যান্ড সাইকোলজির অধ্যাপক ক্যাস্টনার। এফএমআরআই বা ফাংশনাল ম্যাগনেটিক রিজনস ইমেজিংয়ের মাধ্যমে তিনি কিছু নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে মস্তিষ্কে স্ক্যান করেন ওই বিজ্ঞানী ।প্রত্যেকবারই স্ক্যান করার সময় প্রত্যেক ব্যক্তিকে একটি ছবি দেখিয়ে একটি বিষয়ের উপর মনোযোগী করা হয়েছিল। স্ক্যানগুলোতে প্রতিবারই দেখা যায় যে মনোযোগ কার্যকর ,স্মৃতি আবেগ-অনুভূতি মস্তিষ্কের চিন্তন দক্ষতা ইত্যাদি। মানুষের জীবনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে বিশৃংখলা।

যখন আমাদের মনোযোগ কোন একটি নির্দিষ্ট বিষয়ের উপর দিতে চাই তখন আমাদের চারপাশে বিষয়বস্তুর উপর মনোযোগ কমে যায়। আমাদের চারপাশের বিভিন্ন বিষয় আমাদের মনোযোগের কেন্দ্রবিন্দু হতে পারে ।যদি আমরা আমাদের চারপাশে বিশৃংখলার  সরিয়ে ফেলতে পারি।

ক্যাস্টনা লক্ষ করেছেন একটি গবেষণার ২০২১ সালে ,যারা সাজানো-গোছানো রাখেন নিজের কর্মক্ষেত্র তাদের কাজে মনোযোগ ক্ষমতা অধিক হয়ে থাকে, দীর্ঘ সময়ের জন্য তারা একটি কাজের অখণ্ড মনোযোগ দিতে পারেন এবং সর্বোপরি তাদের কর্ম ক্ষমতা বহুলাংশে বৃদ্ধি পেয়ে থাকে কারণ তারা তখন সৃজনশীলতার মধ্য থেকে। আমরা যদি আমাদের মস্তিষ্ক থেকে অপ্রয়োজনীয় চিন্তাভাবনা বের করে দেই ।তাহলে আমাদের মস্তিষ্কে চাপের প্রভাব কমে যাবে এবং যেকোনো কাজে মনোযোগ দিতে পারব সহজে।

মানসিক চাপ এবং পরিত্রানের উপায় : মহামারী সৃষ্ট বিশৃংখলা

বিভ্রান্তি এবং ঘরে বসে কাজ

ফিলাডেলফিয়াতে কর্মরত নিউরোলজিস্ট এবং অকুফেশনাল মেডিসিন স্পেশালিস্ট সংসার সামলানোর অভিজ্ঞতা ব্যাখ্যা করছছে এই পদ্ধতির মতো যে তাদের এই পদ্ধতিটা যুদ্ধের সাথে তুলনা করা হয়েছিল। একাধারে মানুষ যদি সংসারে থাকে তাহলে যে বিশৃংখলা সৃষ্টি হতে পারে এ বিষয়ে তিনি গভীর ধারণা পেয়েছেন। স্নায়ুবিজ্ঞানীকে এই সমস্যা সমাধানের জন্য তিনি কাজে লাগাচ্ছেন ।মানুষ অনেক বেশি বিভ্রান্তির মধ্যে পড়ে যখন ঘরে বসে কোন কাজ করতে হয়।ম্যাকলেনের ভাষায়,

মানুষ যখন স্বাভাবিকভাবে একা একা থাকে তখন তার মাথায় বিভিন্ন ধরনের চিন্তাভাবনা ঘুরপাক খায়। এটা স্বাভাবিক ঘরে বসে একা একা কাজ করলে বিভিন্ন চিন্তা মাথায় আসবে ,আপনার মন বিভিন্ন বিষয় নিয়ে চিন্তিত থাকবে এবং আপনি কোন কাজে মনোযোগ সহকারে করতে পারবেন না। সংসারের ছোট ছোট কাজ করতে করতে মানুষ এতটাই ক্লান্ত হয়ে যায় যে তার অজান্তে এমন কিছু কাজ করে যেগুলো তার কোনো প্রয়োজনই ছিল না।

মানুষ যখন একা একা থাকে তখন এই ধরনের বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়ে থাকে এবং নিজের মন কাজের ওপর চাপ দিতে পারে না যার ফলে কাজের চাপে নিজের উপর দিন দিন বাড়তে থাকে।

মানসিক চাপ এবং পরিত্রানের উপায় : মহামারী সৃষ্ট বিশৃংখলা

বিশৃংখলাবদ্ধ হওয়ার উপায়

নিজের মানসিক নিয়ন্ত্রণ যদি শতভাগ হয়ে থাকে তাহলে কোন একটি কাজের ওপর মনোযোগ দেওয়া সম্ভব হয় ।আমরা যে কোন কাজ করতে বসার আগে একটা নির্দিষ্ট সময় বেছে নেওয়া উচিত। এতে করে আপনার মানসিক চাপের প্রবণতা কমে যাবে। যেখানে আপনি কাজটি করবেন সেই জাইগাটা যদি আপনার মন মত না হয়ে থাকে তাহলে কাজের উপর মনোযোগ দিতে পারবে না সে জন্য যেকোনো কাজ শুরু করার আগে ওই পরিস্থিতি সম্পর্কে ভালো করে বুঝে নেওয়া উচিত।

যার ফলে কোন কিছু দেখে আপনার মনে অশান্তি সৃষ্টি হবে না এবং আপনি আপনার মূল কাজে মনোযোগ দিতে পারবেন শতভাগ। যদি আপনি কোন একটা বিষয়ের ওপর চিন্তিত থাকেন তাহলে আপনার প্রয়োজনীয় কোনো চিন্তাভাবনা মাথায় আসবে না যার ফলে আস্তে আস্তে আপনার কাজের চাপ সৃষ্টি হবে। বৈজ্ঞানিক ভাষায় আমরা বলতে পারি যে মাইন্ডফুলনেস চর্চা করলে মানসিক চাপ কম হয়। অতীত এবং ভবিষ্যতে কি হয়েছে ওই বিষয়গুলো নিয়ে চিন্তা না করে বর্তমানে কি ঘটছে ,কি হচ্ছে ,এই বিষয় ঘটে থাকে তা করা হচ্ছে মাইন্ডফুলনেসের চর্চা।

Thank You for Visit.

Leave a Comment