ই-মেইল জলবায়ু পরিবর্তনে প্রভাব রাখছে!

ই-মেইল জলবায়ু পরিবর্তনে প্রভাব রাখছে!

একাডেমিক কাজে বা অফিশিয়াল কাজেই হোক কাউকে আপনি কোন একটি ফাইল মেইল করেছেন, যার কারণে খুশি হয়ে আপনাকে ধন্যবাদ লিখে পাঠালেন। জেনে অবাক হওয়ারই কথা, যে পরিবেশ ও জলবায়ু জন্য ক্ষতিকর হয়ে উঠতে পারে ছোট এই প্রাপ্তি স্বীকারই।

ওভো এনার্জি হলো যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক এনার্জি রিটেল কোম্পানি দেশটি চালানো এক গবেষণায় দেখেছেন প্রতিটি প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ যদি প্রতিদিন অন্তত একটা করে ধন্যবাদ সূচক ইমেইল পাঠান যুক্তরাষ্ট্রের, তাহলে বছরে প্রায় ১৬,৪৩৩ টন কার্বন সাশ্রয় করা সম্ভব। কার্বন ফুটপ্রিন্টে এ রাখতে বিশাল প্রভাব এই প্রয়োজনীয় ইমেইল। যা প্রভাব ফেলে জলবায়ুতে।

কার্বন ফুটপ্রিন্ট কি?

কার্বন ফুটপ্রিন্ট হলো বাস্তুতান্ত্রিক পদক্ষেপের বহুল আলোচিত উপাদান। প্রয়োজনীয় জায়গার দরকার হয় জীবাশ্ম জ্বালানি ও অন্যান্য জ্বালানি পোড়ানোর ফলে সৃষ্ট কার্বন-ডাই-অক্সাইডের শোষণের জন্য। আর একটু স্পষ্ট করে বললে বোঝা যাবে যে, প্রক্রিয়া অথবা কর্মক্ষেত্রের পারিপার্শ্বিক পুরো সীমানায় সংশ্লিষ্ট, সকল উৎস কোন নির্দিষ্ট জনগোষ্ঠী সংগ্রাম, এবং ধারক বিবেচনায় মিশ্রিত কার্বন-ডাই-অক্সাইড ও মিথেনের মোট পরিমাণ কি উক্ত অঞ্চলের কার্বন ফুট প্রিন্ট বা কার্বন পদচিহ্ন বলা হয়।

ই-মেইল জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব রাখছে!

গবেষণায় কি বলছে?

ওভো এনার্জি ২০১৯ সালের ২৬ শে নভেম্বর ই- মেইলে বিষয়ক গবেষণা প্রতিবেদনটি প্রকাশ করেন। নভেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহে ১৬ বছরের উপরে প্রাপ্তবয়স্ক প্রায় তিন হাজার ব্যক্তির উপর জরিপকারীদের দারা এ গবেষণা চালানো হয়। গবেষণায় বলা যায় যে ,ই-মেইল ইনবক্স এর সাথে কার্বন ফুটপ্রিন্ট যে সংযোগ আছে এ সম্পর্কে অসচেতন রয়েছে ৭২ শতাংশ মানুষ। ৩৪ মিলিয়ন ইমেইল পাঠানো হয় এই অসচেতনার কারণে প্রতিদিন। এদিকে বোঝা যায় প্রত্যেক বছর শেষে ২৩,৬৭৫ টন কার্বন যোগ হচ্ছে দেশটির কার্বন ফুট প্রিন্টে। যা জলবায়ুতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

বর্তমান বিশ্বের যোগাযোগই অবিচ্ছেদ্য মাধ্যম হচ্ছে ই-মেইল। অপ্রয়োজনীয়’ ইমেইলের সংখ্যা বাড়ছে কারন এখন ইমেইলের মাধ্যমে বিভিন্ন ডকুমেন্ট এক স্থান থেকে অন্য স্থানে পাঠানো হচ্ছে। বর্তমান বিশ্বে অপ্রয়োজনে মেইল করে থাকেন বহু মানুষ যেমন প্রত্যেক বন্ধু, বান্ধবের সাথে। এমন দশটি শব্দের কথা বলেছে ওভো যেগুলো অপ্রয়োজনীয়’ মেইলের কাজে প্রতিনিয়ত ব্যবহার করা হচ্ছে।

ই-মেইল জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব রাখছে!

ওভো এমন এক রিপোর্টে বলেছেন যে,প্রতিদিন যদি প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ এমন একটি করে অপ্রয়োজনে মেইল না পাঠাই তাহলে বছরে প্রায় ১৬,৪৩৩ টন কার্বন নিঃসরণ কমানো সম্ভব। এত বড় একটা সাশ্রয় কমানোর জন্য কোম্পানির দুটি বিষয় উল্লেখ করেছেন। ১৬,৪৩৩ টন কার্বন মাদ্রিদের উদ্দেশ্যে উড়ে যাওয়া ৮১,১৫২ টি ফ্লাইট থেকে নিঃসরিত কার্বনের পরিমাণ। মাদ্রিদ বিমানবন্দর থেকে লন্ডনের হিথ্রো বিমানবন্দরে দূরত্ব হলো ১,২৫০কিলোমিটার। এক একটি ফ্লাইটে কার্বন-ডাই-অক্সাইড নিঃসৃত হয় গড় ০.১৬২ গ্রাম যদি তেল চালিত গাড়ি হয় তাহলে ৩,৩৩৪টি। যদি রাস্তায় চলে তাহলে তার থেকে যে পরিমান সাশ্রয় হবে তার সমান। ৯,৪০০মাইল পথ পাড়ি দেয় ইংল্যান্ড ডিজেল চালিত গাড়ি।০.৫২৪৩ কিলোগ্রাম কার্বন-ডাই-অক্সাইড নিঃসরণের পরিমাণ।

প্রত্যেকবারই ভদ্র জাতি হিসেবে পরিচিত লাভ করে ব্রিটিশরা। ধন্যবাদসূচক মেইল পাঠাতে ও তাদের অবস্থান সবচেয়ে উপরে। কিন্তু ব্রিটিশরা এই ধরনের মেইল পাঠায়ে থাকে বেশি। এসব থেকে জলবায়ু সংকটের সৃষ্টি হয় তা যদি তারা বুঝতো তাহলে এমনটা ব্যবহার করতো না।

কার্বন ডাই অক্সাইড কিভাবে নিঃসরণ করে ইমেইল?

পরিবেশের জন্য অপ্রয়োজনীয় ই-মেইল তিন ভাবে ক্ষতিকর প্রভাব বিস্তার করতে পারে।

প্রথমত, ইমেইলের মাধ্যমে আমরা যে ছোট মেসেজ পাঠায় ,সেই মেইল পাঠানোর জন্য যে ইন্টারনেট ব্যবস্থা করা হয়ে থাকে ,সেটি জন্য প্রয়োজন ইলেকট্রিসিটি এবং বৈদ্যুতিক সংযোগ। আবার বিদ্যুত অন্য সময় ব্যবহার করা হয় কারণ অন্যের ফোনে যখন মেইল পাঠানো হয় তখন মেইলটি দেখার জন্য বিদ্যুৎ এবং নেটের প্রয়োজন হয়ে থাকে। প্রত্যেকটা সার্ভারে ইমেইল কিছুটা সময় সঞ্চয় করে রাখে হয় একটা ইমেইল এক স্থান থেকে অন্য স্থানে পাঠানো হয় ইন্টারনেটের মাধ্যমে। যেখানে বিদ্যুৎ এবং নেট ব্যায় হয়ে থাকে। কার্বন নিঃসরণে এই বিদ্যুৎ শক্তি সরাসরি ভূমিকা রাখে । একটি ছোট ম্যাসেজে ইমেইল পাঠানো চার গ্রাম কার্বন-ডাই-অক্সাইড নিঃসরিত হয়।

ই-মেইল জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব রাখছে!

দ্বিতীয়ত, আমরা যখন মেসেঞ্জারে কোন ইমেজ পাঠাই সেটা দেখার জন্য প্রয়োজনে বিদ্যুৎ এবং নেট ব্যয় করতে হবে। যার ফলে সার্ভারে কিছু সময় ইমেজটি সঞ্চয় থাকে এবং সব ধরনের জায়গা দখল করে। এখানে বিদ্যুৎ এবং নেট ব্যবহার করা হয়। এই ভিডিও পাঠাতেও প্রয়োজনে নেট এবং বিদ্যুৎ ব্যয় হবে। প্রায় প্রত্যেকটা ইমেজ ৫০ পার্সেন্ট করে কার্বন-ডাই-অক্সাইড নিঃসরণ করতে থাকে। ০.৩ ম্পঘ্রগ্রাম কার্বন-ডাই-অক্সাইড নিঃসরণ করে স্প্যাম মেইলে। এই মেইল মুছে যায় অনেক সময় স্বয়ংক্রিয়ভাবে।

ই-মেইল জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব রাখছে!

তৃতীয়ত, আমরা যদি মেইল পাঠায় ৬৫ টি সেটি হবে ব্যক্তিগত গাড়ির এককিলো পথ পাড়ি দেওয়ার সমান। একজন ব্যক্তি প্রতিবছর ১৩৬ গ্রাম কার্বন ফুট প্রিন্ট যোগ করছে ইমেইল পাঠিয়ে এবং গ্রহণ করে। নতুন গাড়ি রাস্তায় নামানোর সমান বিশ্বব্যাপী মেইল পাঠায় অতিরিক্ত ৭ মিলিয়ন।মাইক বার্নার্স-লি ওভো এনার্জির এ গবেষণার পরামর্শক হিসেবে কাজ করছেন ইংল্যান্ডের ল্যনচ্যাস্টার বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক। তার মতে ,

”    জলবায়ুর ভয়াবহতা থেকে আমরা সকলে রক্ষা করতে পারব। আমরা যদি কার্বন নিঃসরণ করতে পারি ব্যক্তিগতভাবে।

 

টিম Berners-lee এর ভাই হলো world-wide-web এর প্রতিষ্ঠাতা। তার ভাইকে কি দোষারোপ করছে সে তাকে একবার জিজ্ঞেস করা হয়েছিল ?তিনি মুখে সুন্দর হাসি নিয়ে উত্তর দিয়েছিলেন যে

যদি আমরা বুঝে শুনে কাজ করি ,তাহলে ওয়েবে মাধ্যমে আমরা ভালো ভালো কাজ করতে পারব। 

এক গবেষণা প্রতিবেদনের মাধ্যমে বলেছেন ওভো এনার্জি think before you thank। সকলের কাছে এই শিরোনামে স্লোগান তুলে ধরা হলো। জলবায়ু সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে যে কিছু ই-মেইল পাঠানো বন্ধ করলে এমন কিছু না। যদি স্বয়ংক্রিয়ভাবে ব্যক্তিবর্গরা নিজ থেকেই মেইলে আদান-প্রদান কমিয়ে দিতে পারে তাহলে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব কম হবে।

Thank You for Visit.

Leave a Comment