গুগলের একটি ব্যর্থ প্রকল্প : প্রজেক্ট ড্রাগনফ্লাই

গুগলের একটি ব্যর্থ প্রকল্প: প্রজেক্ট ড্রাগনফ্লাই

চীন বর্তমান বিশ্বের সবচেয়ে আকর্ষণীয় বাজার। চিনে ব্যবসা করতে চাই না গুগল মুনাফার জন্য। কি ঘটেছিল ওখানে সেটা আমাদের বোঝা দরকার ,আমাদের নিজেদের স্বার্থের জন্য। যা আমরা আগে জানতাম না তা চিনা আমাদের শেখাবে।

বেন গোমেজ উপরের কথাগুলো সম্পর্কে বলেছিলেন গুগলের তৎকালীন হলো হেড অফ সার্চ। চীনের বাজার সম্পর্কে কিছুটা ধারনা করতে পারেন আপনি বেন গোমেজ এর কথা শুনে। পৃথিবীর আর দশটা দেশের মতো নয় চীনের বাজার ।গুগলকে যেমন চীনের বাজারে টিকে থাকার জন্য অনেক প্রতিদ্বন্দ্বিতা শিকার হতে হয়েছে ।আবার সেখানে সেবা দিতে যেও সরকারের বিভিন্ন নিয়ম-নীতির বেড়াজালে পড়তে হয়েছিল গুগোলকে। প্রযুক্তি নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে স্বপ্নের মতো চীন ।যেমন করেছিল কোটি কোটি ভোক্তা বাজার আকর্ষণীয় গুগোল ।কিন্তু গুগোল প্রথম যাত্রায় বেশি সুবিধা ভোগ করতে পারেননি।

গুগলের একটি ব্যর্থ প্রকল্প: প্রজেক্ট ড্রাগনফ্লাই

গুগোল যখন প্রথমবারের মতো চীনের বাজারে ঢুকে ছিল তখন ,চীনের সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয় ছিল সার্চ ইঞ্জিন বাইডু। উন্নত দেশগুলোতে চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হয়নি কখনো গুগলকে ।কিন্তু চীনে চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হয়েছিল গুগলকে। বাইডু নির্মাণ করেছিল চীনের প্রযুক্তিবিদরা এবং সব ধরনের সেবা দিয়ে থাকছিল এর মাধ্যমে ।যে সেবাগুলো গুগোল এর থেকেও অনেক ভাল ছিল।

প্রায় ২০০ ই-কমার্সের সুযোগ নিয়ে আসে যখন চিনি কমার্সের সুবিধাপ্রাপ্ত হতে যাচ্ছেন। চিনা হ্যাকাররা পরবর্তীতে গুগলের সাইবার আক্রমণ করেছিল যেখানে গুগলের প্রচন্ড ক্ষতিগ্রস্ত হতে হয়েছিল। গুগলে প্রযুক্তিবিদরা দেখতে পান তদন্ত করতে গিয়ে যে গুগলের সাইবার আক্রমণ করেছিল ,চীনের মানবাধিকারকর্মী কিংবা সরকারের সমালোচকদের জিমেইল আইডি থেকে অসংখ্য তথ্যের উপর আড়িপাতা হয়েছে। তাই গুগল চীন থেকে নিজেদেরকে গুটিয়ে নিয়েছিল ২০১০ সালে।

গুগলের একটি ব্যর্থ প্রকল্প: প্রজেক্ট ড্রাগনফ্লাই

গুগল চীনের বাজার থেকে সরে গিয়েছিল এবং পরে আবার ফিরে আসতে চেয়েছিল কিছু  ভিন্ন মতামত নিয়ে। গুগলের বাইরের কেউ এমন একটা ঘটনা জানত না ,যে গুগোল চীনের আইনের প্রতি কঠোর ভাবে একটা সার্চ ইঞ্জিন তৈরি করেছে। গুগোল সবচেয়ে একটা বড় ভুল করেছিল চীনের বড় বাজার থেকে সরে এসে ।পুনরায় আবার ফিরে যাওয়ার জন্য গোপনে গোপনে বিষয়টি আবার নিশ্চিত করে। গুগলের প্রধান নিবার্হী কর্মকর্তা সুন্দর পিচাই কখনোই এই বিষয়টি নিয়ে গণমাধ্যমে কথা বলেননি যে চীনের বড় বাজারে পুনরায় তারা আবার ফিরে যেতে চাচ্ছে, কিন্তু গুগোল দ্বিতীয়বারের মতো চীনের বাজারে আর প্রবেশ করতে পারেনি। এর জন্য গুগলকে আরো বড় সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়েছিল এবং ওই প্রকল্প সম্পূর্ণ বাতিল করা হয়েছিল।

জিরো টলারেন্স দেখিয়ে এসেছে চীনের কমিউনিস্ট পার্টি সব সময়।  গণতন্ত্র, লিবারেলিজম এসব বিষয় সম্পর্কে সব সময়ই স্পর্শ কতর ছিল চীন। বাইডু সহ চীনে কতগুলো সার্চ ইঞ্জিন ছিল সবগুলোতেই সেন্সরশিপ আরোপ করা হয়েছিল। এর থেকেও আরো বেশি করা সেন্সরশিপ আরোপ করা হয়েছিল গণমাধ্যম এর উপরে। কমিউনিস্ট পার্টির কাছ থেকে অনুমোদন নিতে হয় কোন কিছু প্রচার করতে হলে। যদি কোন পত্রিকা প্রচার করতে চায় তাহলে চীনের কমিউনিস্ট পার্টির কাছ থেকে আগে অনুমোদন নিয়ে তারপরে পত্রিকাটি প্রচার করতে হবে। পত্রিকাটি কোন বিষয়ে ছাপা হবে সেই সম্পর্কে আগে কমিউনিস্ট পার্টির কাছ থেকে অনুমোদন নিতে হবে এবং অনুমোদন দেওয়া হলে সবুজসংকেত পেলে পত্রিকায় ছাপা হবে।

গুগলের একটি ব্যর্থ প্রকল্প: প্রজেক্ট ড্রাগনফ্লাই

চীনা ভাষার জন্য সার্চ ইঞ্জিন তৈরি করেছিল সর্বপ্রথম গুগোল , তখন এই ভাষা এতটা জনপ্রিয় পায়নি, কারণ সেখানকার  খুব সহজ একটা ভাষা ছিল মান্দারী এবং ওখানকার নাগরিকরা ওই ভাষায় কথা বলতো । চীনা নাগরিকরা যতটুক ফলাফলের প্রত্যাশা করতো তা দিতে পারত না গুগোল। চীনা কমিউনিস্ট পার্টি সাথে ঝামেলা হয়েছিল সেন্সরশিপ নিয়ে গুগলের কর্মকর্তাদের এবং এই কারণেই ছেরে দিতে হয়েছিল গুগলকে চীন। একটি বেইজিংভিত্তিক নিউজ পোর্টালের কাজ থেকে চীনা ব্যবহারকারীদের তথ্য সংগ্রহ করতে শুরু করে গুগল ওই শিক্ষা পাওয়ার পর থেকে।

প্রজেক্ট ড্রাগনফ্লাই এর মূল লক্ষ্য ছিল এমন একটা সার্চ ইঞ্জিন তৈরি করবে, যেখানে চীনা সরকার কর্তৃক নিষিদ্ধ ফলাফলগুলো সেন্সর করা থাকবে ,ওই সার্চ ইঞ্জিনে যাতে করে বাজারে কোন প্রভাব ফেলতে না পারে। চীনে ব্যবসা করতে পারবে না গুগোল কেননা চীনের দেওয়া বাঁধাধরা নিয়ম মেনে চলতে পারবে না তারা। জনগণকে প্রকৃত সত্য থেকে দূরে রাখা হয় সেন্সরশিপ এর মাধ্যমে ,এবং সেন্সরশিপ হলো সম্পূর্ণ একটি অনৈতিক কার্যকলাপ। এই ধরনের কাজকে কখনোই ভালো চোখের দৃষ্টিতে দেখা হয় না উন্নত দেশগুলোতে।

গুগোল খুব ভালো করে জানত যে ,এই প্রকল্পের তথ্য যদি জনগণের সামনে চলে আসে তাহলে অনেক সমালোচনার মুখোমুখি হতে হবে চীনকে। দ্য ইন্টারসেপ্ট হলো এমন একটি সংবাদ মাধ্যম যেখানে গুগলের গোপন প্রকল্প নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করলে মানুষ প্রথমবারের মতো এই প্রকল্প সম্পর্কে জানতে পারে। সরাসরি কথা বলতে শুরু করল এরপর থেকে গুগলের কর্মীরা। এই প্রকল্পে সমর্থন করতে পারছিলেন না গুগোল দীর্ঘদিন ধরে কাজ করেছেন এরকম অসংখ্য কর্মী নৈতিকভাবে। তাই এই প্রকল্প থেকে নিজেদেরকে অনেকে সরিয়ে নিয়েছিলেন। এই প্রকল্প মানুষের মুখে সমালোচনার পাত্র হয়ে যায় গণমাধ্যমের মাধ্যমে প্রচার হওয়ার পর থেকে। গুগলকে তলব করা হয়েছে আমেরিকার কংগ্রেসের শুনানির জন্য।

গুগোল পিছু হাটতে বাধ্য হয়েছিল সবদিক থেকে সমালোচনার মুখে পড়ার পর থেকে ।গুগোল মূলত অর্থনৈতিক কারণে চীনে পুনরায় আবার ফিরে আসতে চেয়েছিল ।কোন বিখ্যাত প্রযুক্তিনির্মাতা পক্ষে এত বড় বাজার ছেড়ে দেওয়া কখনো উচিত ছিল না। বিশ্বজুড়ে এই প্রকল্পের বিরুদ্ধে এতটা প্রতিবাদ করা হয়েছিল যে, তাতে গুগোল বাড়তি ঝামেলা এড়াতে এ প্রকল্প পুরোপুরি বাদ দেয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছিল ওই সময়।

গুগলের একটি ব্যর্থ প্রকল্প: প্রজেক্ট ড্রাগনফ্লাই

গুগোল মূলত বেশি ঝামেলায় পড়ে ছিল ওই প্রজেক্ট সৃষ্টি করে ।এই প্রকল্পে বন্ধের ব্যাপারে গুগলের কর্মকর্তাদের কাছে পিটিশন জমা দেন হাজারো অধিক কর্মী। গুগলের প্রধান নিবার্হী কর্মকর্তা হলো সুন্দর পিচাইকে মানবাধিকার সংস্থাগুলো এই প্রকল্প বন্ধের কথা বারবার বলেছিল। ২০১৮ গুগলের কর্তাব্যক্তিরা প্রকল্প সম্পর্কে তেমন উচ্চবাচ্য না করলেও পরবর্তীতে ২০১৯ সালে চীনের জুডিশিয়ারি কমিটি শুনানির পর করণ ভাটিয়া নামের একজন কর্মকর্তা বলেন যে গুগোল এ প্রকল্প বাতিল করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছিল।

পশ্চিমা বিশ্বের অভিযোগ কম ছিলনা চীনের বিরুদ্ধে ।একই সাথে মুসলিমদের ওপর নিপীড়ন তো আছে। উন্নত বিশ্বের দেশগুলো চীনের সমালোচনা করে থাকে। চীনা সরকার চীনা নাগরিকের ওপর কড়া নজরদারি করে থাকে এবং তাদেরকে কড়া নজরদারি করার জন্য সরকারি বিভিন্ন নিয়মকানুন বাধ্য করা হয়েছে ।মানবাধিকার কর্মীরা একজোট হয়ে প্রতিবাদ করেছিল যখন গুগলের সার্চ ইঞ্জিন সম্পর্কে ফাঁস হয়েছিল। শুধুমাত্র চীন নিজ দেশকে শক্তিশালী করতে চেয়েছিল। গুগলের এই গোপন প্রকল্প থেকে আমরা সকলে বুঝতে পারে যে, মুনাফার কাছে রাষ্ট্রীয় নিপীড়নের মত অনৈতিক কাজ কোন ব্যাপারি না।

Thank You for Visit.

Leave a Comment