উদ্বিগ্ন না হয়ে চলুন সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করি

উদ্বিগ্ন না হয়ে চলুন সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করি

 

জীবনে ছোট থেকে বড়, সহজ থেকে কঠিন, পারিবারিক থেকে সামাজিক, স্বাভাবিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ, ব্যক্তিগত থেকে ব্যবসায়িক ইত্যাদি বিভিন্ন ব্যপারে আমাদেরকে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে হয়। এসময় মাথা ঠান্ডা রেখে একটি সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা উচিত। একটি সঠিক সিদ্ধান্ত যেমন জীবনে কল্যান বয়ে আনতে পারে, তেমনি একটি ভুল সিদ্ধান্তও সারাজীবনের আফসোসের কারন হতে পারে। মানসিক স্থিতি এবং একটি সুষ্ঠু পরিবেশ সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। জীবনে কি কখনো উদ্বিগ্ন অবস্থায় হুটহাট করে কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছেন?

যদি করে থাকেন, তাহলে সিদ্ধান্তটা কি সঠিক ছিলো? কতটা সঠিক ছিলো? বিকল্প সিদ্ধান্তটা তখন গ্রহণ করলে কি আরও ভালো হতো? সেসময় কতটা যুক্তিসঙ্গত উপায়ে চিন্তা করে সিদ্ধান্তটা গ্রহণ করেছিলেন? মানুষের মস্তিষ্ককে সরাসরি প্রভাবিত করে উদ্বিগ্নতা। ফলে, আমাদের আচরণে এর প্রতিফলন ঘটে থাকে। সম্প্রতি দ্য ইউনিভার্সিটি অভ পিটসবার্গ ইনস্টিটিউশনাল অ্যানিমেল কেয়ার অ্যান্ড ইউজ কমিটি অনুমোদিত একটি রিসার্চ ল্যাবরেটরিতে প্রাণীর যত্ন ও ব্যবহার বিষয়ে ন্যাশনাল ইনস্টিটিউটস অভ হেলথ’স গাইডের নীতিমালা অনুসরণ করে ইঁদুরের উপর একটি গবেষণা করা হয়।উদ্বিগ্ন না হয়ে চলুন সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করি

কয়েকটি ইঁদুরকে নিয়ে তাদেরকে দুটি দলে ভাগ করা হয়। একটি দলের ইঁদুরগুলোর উপর খুবই কম মাত্রায় উদ্বিগ্নতা সৃষ্টির ওষুধ প্রয়োগ করা হয় এবং অপর দলটির ইঁদুরগুলোর উপর কোনো ওষুধই প্রয়োগ করা হয় না। তারপর এদের গতিবিধি ও আচরণ পর্যবেক্ষণ করে দেখা গেলো যে, ওষুধ প্রয়োগকৃত ইঁদুরগুলোর মধ্যে অপেক্ষাকৃত চাঞ্চল্য বেশি বিদ্যমান ছিলো এবং এই ইঁদুরগুলো সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে কিছু ভুল সিদ্ধান্ত গ্রহণ করছিলো। দুশ্চিন্তা, ভয়, বিদ্বেষ, অবহেলা, অর্থনৈতিক অভাব, শারিরীক অসুস্থতা, বিভিন্ন সামাজিক কারন, সম্পর্কের জটিলতা, জীবনে ঘটে যাওয়া কোনো দূর্ঘটনা ইত্যাদি বিষয়গুলো মানুষের উদ্বিগ্নতা সৃষ্টির জন্য দায়ী‌‌।

চিকিৎসাবিজ্ঞানের আলোকে সিদ্ধান্ত গ্রহণে উদ্বিগ্নতার প্রভাবকে ব্যাখ্যা করতে গেলে বলা যায় যে, যখন কোনো বিষয়ে মানুষ উদ্বিগ্ন থাকে, তখন মানুষের মস্তিষ্কের লিম্বিক সিস্টেমে বেশকিছু উদ্দীপনা কাজ করে। ফলে, মস্তিষ্কের সম্মুখভাগে অবস্থিত ‘চিন্তা এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী’ অংশ-প্রিফন্টাল কর্টেক্সের ‘মনোনিবেশ প্রক্রিয়া’ ব্যহত হয়ে থাকে‌। এর ফলে কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণের অনুভূতি ক্ষীণ হয়ে যায়। ফলে, উদ্বিগ্ন অবস্থায় আমরা সবসময় ভুল সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে থাকি।উদ্বিগ্ন না হয়ে চলুন সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করি

প্রবাদ অনুযায়ী, সাতপাঁচ ভেবে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে হয়। সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে উদ্বিগ্নতা এড়ানোর কিছু কৌশল দেখা নেওয়া যাক। উৎফুল্ল থাকুন মানুষের মস্তিষ্কের প্রি-ফন্টাল কর্টেক্সকে সবসময় এক্টিভ রাখে উৎফুল্লতা এবং উদ্বিগ্নতাকে পুরোপুরি বিকল করে দেয়। তাই যতটুকু সম্ভব নিজেকে সর্বদা উৎফুল্ল রাখার চেষ্টা করুন। ফলে, জীবনের সঠিক সিদ্ধান্তগুলো গ্রহণ করা আপনার জন্য সহজ হয়ে যাবে। লম্বা করে শ্বাস নিন অনেক সময় নিজের মনের দ্বন্দ্বের কারণে উদ্বিগ্নতার সৃষ্টি হয়ে থাকে। এমন অবস্থায় নিজেকে স্বাভাবিক রেখে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করার একটি উপযোগী কৌশল হচ্ছে সটান হয়ে দাঁড়িয়ে লম্বা লম্বা শ্বাস নেওয়া। ফলে আপনার ভালো অনুভব হবে এবং মাথাটাও কিছুটা হালকা হয়ে যাবে।

তখন একটু শান্ত হয়ে সঠিকভাবে চিন্তা-ভাবনা করে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে ফেলুন। বিষণ্ণতার কারণ অনুসন্ধান ব্যক্তিগত জীবনের হতাশা, কর্মস্থলে সমস্যা, পরিবারের সদস্যদের সাথে গন্ডগোল, কারো সাথে মতবিরোধ, অতীতের কোনো বাজে স্মৃতি, দীর্ঘ ট্র্যাফিক জ্যামের ঝক্কি ইত্যাদি এমন নানা বিষয় আপনার দৈনন্দিন জীবনে উদ্বিগ্নতা সৃষ্টির কারন হয়ে থাকে। এসময় নির্দিষ্ট কারণটি চিহ্নিত করে তা সমাধান করার উপায় বের করার চেষ্টা করতে থাকুন। ফলে আপনার সিদ্ধান্ত গ্রহণে এবং আচরণে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে। কিছুটা সময় নিন মানুষের জীবনের সবকিছু তার প্রত্যাশা অনুযায়ী হয় না।উদ্বিগ্ন না হয়ে চলুন সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করি

তাই এই ধরনের পরিস্থিতিতে নিজের জন্য একটু সময় নিন। যদিও এইটা বেশ কঠিন, তারপরও নিজেকে একটু সময় দিতে থাকুন, যতক্ষণ না পর্যন্ত পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। এক্ষেত্রে নিজেকে যতটা সম্ভব ধৈর্যশীল করে গড়ে তুলতে পারবেন, পরিস্থিতি পরিবর্তনের ক্ষেত্রে সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করার সক্ষমতা ততটা বৃদ্ধি পাবে। চিন্তা, অনুভূতি এবং আচরণ মানুষের জীবনে এই তিনটি বিষয়গুলো একে অপরের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত।

এই তিনটির মধ্যে, অর্থাৎ চিন্তা, অনুভূতি এবং আচরণের মধ্যে যেকোনো একটিকে যদি আপনি ইতিবাচক এবং প্রাণচঞ্চল হয়ে উঠতে পারেন, তাহলে বাকিগুলোও এমনিতেই পরিবর্তিত হবে আপনার উদ্বিগ্নতাকে উপেক্ষা করে। নিজের প্রত্যাশা সম্পর্কে ভাবুন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করার সময় আপনি ‘কী চান না’, তা নিয়ে না ভেবে বরং আপনি ‘কী চান’, তা নিয়ে ভাবুন। কারন যখন আপনি প্রথম ব্যাপারটা নিয়ে চিন্তা-ভাবনা করবেন, তখন আপনার উদ্বিগ্নতার সৃষ্টি হবে এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণ করার সময় শুধুমাত্র নেতিবাচক সম্ভাবনাগুলোই আপনার কল্পনার জগতে ভাসবে তখন।

ফলে, তখন আপনার সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করার ক্ষমতা অনেক কমে যাবে এবং ভুল সিদ্ধান্ত গ্রহণ করার সম্ভাবনা বেড়ে যাবে। তাই, আপনার চাহিদাকে আগে সঠিকভাবে নির্বাচন করুন। বিষয়ের প্রাধান্য নিশ্চিত করুন ধরুন, আপনি দীর্ঘদিন ধরে চাকরি করছেন। সম্প্রতি আপনি মা হয়েছেন। এমন অবস্থায় আপনি উদ্বিগ্নতা এবং সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগছেন যে চাকরিতে ফিরে যাবেন নাকি চাকরি ছেড়ে দিয়ে সন্তানের পাশে পুরোটা সময় থাকবেন। এক্ষেত্রে সন্তানের পাশাপাশি চাকরিও আপনার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। প্রত্যেক মানুষের পারিপার্শ্বিকতা এবং ব্যক্তিগত জীবন একে অপরের ক্ষেত্রে আলাদা হয়ে থাকে। ফলে, প্রত্যেকের সিদ্ধান্তই একে অপরের থেকে আলাদা হয়ে থাকে।

তাই উদ্বিগ্নতাকে প্রশ্রয় না দিয়ে, ঠান্ডা মাথায় সবকিছু চিন্তা-ভাবনা করে দেখুন যে এই মুহূর্তে আপনার কাছে কোনটি অধিক গুরুত্বপূর্ণ? সহজেই উত্তরটা খুঁজে পাবেন। চটজলদি হতে হবে অনেক সময় আমাদের জীবনে এমন অনেক সিদ্ধান্ত আসে, যা গ্রহণ করতে করতেই আমাদের ১-২ ঘন্টা লেগে যায়। বিষয়টা নিয়ে আমরা ঘন্টার পর ঘন্টা, দিনের পর দিন শুধু ভাবতেই থাকি। কিন্তু কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারি না। এর ফলে সিদ্ধান্ত গ্রহণে জটিলতার সৃষ্টি হয় এবং আমরা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ি।

তাই এভাবে সময় নষ্ট না করে বারবার একই বিষয় নিয়ে না ভেবে, চটজলদি সিদ্ধান্ত গ্রহণ করাই উত্তম। সর্বোপরি, পরিস্থিতি বিবেচনা করে ঠান্ডা মাথায় বিষয়গুলোকে যদি ধাপে ধাপে সাজিয়ে একটু চিন্তা করা যায়, তাহলে সকল উদ্বিগ্নতাকে উড়িয়ে দিয়ে খুব সহজেই সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা সম্ভব।

Thanks For Visit.

Leave a Comment